ফুটবল-ক্রিকেট খেলার ভিরেও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন দাবা নামক খেলার প্রতি যার নাম জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশী দাবারু খেলোয়ারদের মধ্যে অন্যতম। জিয়াউর রহমান ১৯৭৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ছোট থেকেই তার মনে প্রাণে ছিল দাবা। ছোটবেলা থেকেই তার প্রতিজ্ঞা ছিল তিনি গ্র্যান্ডমাস্টার হবেন। সেই সময় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশটিতে গ্রান্ডমাস্টার মাত্র একজন ছিল তার নাম নিয়াজ মোরশেদ। জিয়ারও আদর্শ ছিলেন সেই গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ।
দাবা খেলতে খেলতে প্রাণ গেল জিয়ার! জিয়ার পিতা পয়গাম উদ্দিন আহমেদ নিজে একজন দাবা খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি বুয়েটে চ্যাম্পিয়ন হন এবং জাতীয় দাবাও খেলেন। তাই তিনি তার ছেলেকে দাবা খেলতে বাধা দেননি। তার বাবার সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের জন্য ২০০২ সালে দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছিলেন।
বর্তমানে, বাংলাদেশে নিয়াজ মোর্শেদ এবং জিয়াউর রহমান ছাড়াও আরও তিনজন গ্র্যান্ডমাস্টার রয়েছেন। রিফাত বিন সাত্তার (২০০৬) আবদুল্লাহ আল রাকিব (২০০৭) এবং এনামুল হোসেন রাজীব (২০০৮)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করার পর, জিয়াউর রহমান ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো স্কুলে দাবা খেলায় অংশ নেন। তবে সেবার তেমন কিছু অর্জন করতে পারেননি। পরের বছর তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। আর তার পরবর্তী বছরে চ্যাম্পিয়ন হন।
২০১২ সালে, জিয়াউর রহমান ভারতে আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিলেন। ২০১৮ সালে, তিনি নয়াদিল্লিতে ১৮তম ওপেন আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার দাবা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বাংলাদেশ গেমসেও শিরোপা জিতেছেন। তিনি আরও ভাল করতে পারতেন, কিন্তু ২০১০ সালে তিনি জীবিকার তাগিতে কোচিং শুরু করেছিলেন এবং এটি তার রেটিং হ্রাসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দাবা ফেডারেশন উদ্যোগ না নিলে দাবা খেলোয়াড়রাও পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন জিয়া। তবে ফেডারেশনকে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ সবসময় দিয়েছেন তিনি। কাজ হয়নি। এই আফসোস নিয়েই জিয়া চলে যায় । ছেলেকে বড় দাবাড়ু বানাতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নও দেখে যেতে পারলেন না জিয়া। এটিই হয়তো আফসোস থাকবে তার?
All Bangla Newspaper or News Free to read free from same place and know more about them All Newspaper Bangla best
































